ট্রেড লাইসেন্স
Trade মানে ব্যবসা এবং License মানে অনুমতিপত্র। ট্রেড লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র , সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সের সুচনা ঘটে। ট্রেড লাইসেন্স ছোট হোক বা বড় হোক প্রত্যেকটি ব্যবসার জন্য দরকারি একটি পেপার। আমাদরে বিসনেস আইডিয়া যাই হোক না কেন বা আমাদের ব্যবসা করার কৌশল যাই হোক না কেন ট্রেড লাইসেন্স / trade licence আমাদের লাগবে। এক্সপোর্ট ইমপোর্ট এর ব্যবসা করতে গেলে ও আমাদের এই trade license এর দরকার রয়েছে।

ট্রেড লাইসেন্স কি কি কাজে লাগে ?
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি প্রশ্ন। আমাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড যেমন ভোটদান ছাড়াও নানা কাজে লাগে তেমনি ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসায়িক নানা কাজে লাগে । বলতে গেলে প্রতি পদে পদে এর প্রয়োজন হয়।
১.মনে রাখবেন ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব দিয়ে আপনি ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি ব্যবসায়িক হিসাব বা সিডি একাউন্ট বা কারেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবে না। এক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এর বিকল্প নেই।
২. অনেক সময় ব্যবসার শুরুতে বা কোনো পর্যায়ে ব্যাংক লোন দরকার হতে পারে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি ব্যাংক লোন এর কথাই ভাবতেই পারবেননা।
৩. ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করতে হলে তারা আপনার ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা তা জানতে ও দেখতে চাইবে।
৪. কোনো ব্যবসায়িক এসোসিয়েশন এর সদস্য হতে হলে আপনার ট্রেড লাইসেন্স অবশ্যই লাগবে।
৫. এছাড়া ভ্যাট ও টিন এর জন্যও ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য। তাছাড়া আরো অনেক কাজে এর প্রয়োজন পড়ে।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি লাগে ?
১. ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থানটি নিজের হলে সিটি করপোরেশনের হালনাগাদ করের রশিদ এবং ভাড়ায় হলে ভাড়ার চুক্তিনামা বা রশিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।
২. আবেদনপত্রের সঙ্গে তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে।
৩. জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি
৪. TIN সার্টিফিকেট
৫. বাড়ির ইউটিলিটি বিলের কপি
৬. যে বাড়ীতে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন তার হোল্ডিং ট্যাক্স হালনাগাদ করণের রশিদ
৭. প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি লিমিটেড হলে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস ও সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন দিতে হবে। আর পার্টনারশিপ ব্যবসার ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ ডিডের কপি দিতে হবে।
৮. যদি কারখানা দিতে চান; প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা কোম্পানির পার্শ্ববর্তী অবস্থান বা স্থাপনার নকশাসহ ওই স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামাও দাখিল করতে হবে।
এসব ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যেমন-
> শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওপরের সব দলিলের সঙ্গে পরিবেশসংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র, প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত মানচিত্র ও অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতিসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।
> ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত হাসপাতালের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন, ছাপাখানা ও আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি
> রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স, অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স
> ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে সিভিল এ্যাভিয়েশনের অনুমতিপত্র
> সিএনজি স্টেশন বা দাহ্য পদার্থের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তর বা ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র

কোথায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়?
আপনি সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানাতে পারেন। তবে আজকাল অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম আছে যারা নির্দিস্ট সার্ভিস চার্জ এর বিনিময়ে এসব কাজ করে দিয়ে থাকে। নিজে ঝামেলা পোহাতে না চাইলে কোনো ফার্মের হেল্প নিতে পারেন।

ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) তার নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চল রয়েছে। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, ওই অঞ্চলের অফিস থেকেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য দুটি ভিন্ন ধরনের ফরম রয়েছে। ফর্মগুলো ‘আই ফর্ম’ ও ‘কে ফর্ম’ নামে চিহ্নিত প্রতিটি ফর্মের দাম ১০ টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি ছোট বা সাধারণ হয়, তবে ‘ফর্ম আই’ আর বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘কে ফর্ম’ নিতে হয়।

আজকাল অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম আছে যারা নির্দিস্ট সার্ভিস চার্জ এর বিনিময়ে এসব কাজ করে দিয়ে থাকে। নিজে ঝামেলা পোহাতে না চাইলে এরকম কোনো ফার্মের হেল্প নিতে পারেন।

ট্রেড লাইসেন্স খরচ কেমন ?
লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে। এই ফি সংশ্লিষ্ট অফিসে রসিদের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। প্রোপাইটরশিপ বা পার্টনারশিপ ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আকার বা ধরন অনুযায়ী এই ফি নির্ধারণ করা হয়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর অধীনে ৫শ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেট আছে। সফটওয়ার, আইটি বা জেনারেল সাপ্লায়ার হিসেবে কম বেশী ৫ হাজার। সাথে রয়েছে ভ্যাট। আবার লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটালের উপর ভিত্তি করে লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স করার ফি এর বিস্তারিত দেখুন এখানে

ট্রেড লাইসেন্স করতে কত দিন লাগবে?
একটি লাইসেন্স পেতে ৩-৭ দিন সময় লাগতে পারে।

ই- কমার্স ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য খরচ কেমন ?
আসলে আমাদের সব কিছু একটু ব্যাকডেটেড, আমাদের ব্যবসায়িক তালিকায় এখনো ই কমার্স যুক্ত হয়নি। এই ক্যাটাগরিতে এখনো লাইসেন্ দেয়া হয়না। তবে আইটি অথবা সফটওয়ার ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নেয়া যেতে পারে। এজন্য দাপ্তরিক খরচ ১১শ টাকা থেকে ১৫শ কিন্তু অন্যান্য খরচ যেমন সাইনােবর্ড ট্যাক্স, ফিজিক্যাল ভিজিট ট্যাক্স আর সংশ্লিস্ট খরচ মিলিয়ে এটা ৫-৬ হাজারে গিয়ে ঠেকে।

পরবর্তীতে ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করতে হয় তা লিখব। আশা করি পাশে থাকবেন।

ইন্টারনেট থেকে শিখলাম, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সবাইকে শুভেচ্ছা, ভালো থাকবেন ।

আমাদের ইকমার্স ব্যবসা।
24kenakata.com
Facebook Page: https://www.facebook.com/24kenakataa/
Facebook Group: https://www.facebook.com/groups/24kenakata/

আপনার বা আপনার পরিচিত কারো ওয়েবসাইট প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের ডেপেলপ করা ওয়েবসাইটগুলো দেখতে পারেন।
http://www.uniquevisionbd.com/portfolio/
Facebook Page: https://www.facebook.com/unique.vision.bangladesh/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *