আপনি যদি ভবিষ্যৎ এর জন্য তৈরি হতে চান বা আপনার ব্যবসাকে তৈরি করতে চান তাহলে দেখুন আপনি যে সেক্টর এ কাজ করছেন বা আপনার ব্যবসায় যে সেক্টর নিয়ে সে সেক্টর এর বর্তমান অবস্থা কেমন, মার্কেট নিয়ে রিসার্চ করুন। রিসার্চ এর জন্য গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।

রিসার্চ ডাটা এর উপর নির্ভর করে আজই কাজ শুরু করে দিন। এ কর্মকান্ড এখন ব্রান্ডিং হিসেবে মনে করতে পারেন। যা ভবিষ্যৎ এ আপনার বিক্রয় বাঁড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করবে।

আমার মতে ৩টি বিষয় এর প্রতি সবচেয়ে বেশি মনযোগী হতে হবে।

১. একটি ওয়েবসাইট আপনার ব্যবসায় এর জন্য এখন খুব বেশি জরুরী। ওয়েবসাইট থাকলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়ঃ

আপনার পেজ থেকে পণ্য ক্রয় এর ব্যাপার এ ক্রেতার আস্থা জন্মাবে। কারণ, বর্তমানে অনেকেই পেজ খুলে অন্য কারো পেজ থেকে ছবি নিয়ে নিজের পেজে এ দিয়ে দিচ্ছে এবং পরে খারাপ মানের পণ্য পাঠাচ্ছে বা অগ্রিম কিছু টাকা নিয়ে পরে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব ঘটনা বেশি হচ্ছে কারণ ফেসবুক এ তো পেজ খুলতে টাকা লাগে না বা বিজ্ঞাপন এর জন্য অল্প কিছু টাকা খরচ করে এর চাইতে বেশি টাকা পেয়ে যায় মানুষ ঠকিয়ে। যখন ক্রেতা দেখবে আপনার ওয়েবসাইটও আছে, তখন বেশিরভাগ সময় ক্রেতা মনে করে যে ব্যবসায়ী টাকা খরচ করে ওয়েবসাইট তৈরি করছে তার ইচ্ছে আছে দীর্ঘদিন ব্যবসায় করার, আশা করা যায় তার থেকে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যাবে।

আপনি হয়ত ভাবছেন, সবাই ফেসবুক থেকেই অর্ডার করে, ওয়েবসাইট দেখবে না, শুধু শুধু খরচ করে লাভ নেই। আবার মনে করিয়ে দেই, ১০ বছর আগে ফেসবুক ছিল না, সামনের ৫-১০ বছর এ কি হবে তার জন্যই আপনাকে তৈরি হতে বলছি। ১০০ জনের মধ্যে ১ জন হলেও ওয়েবসাইট দেখবে। আপনি যদি এখন থেকে ওয়েবসাইট এর মার্কেটিং করতে থাকেন, পরবর্তী কয়েক বছর এর মধ্যে মানুষ সরাসরি আপনার ওয়েবসাইট এই চলে যাবে। আপনাকে আর ভাবতে হবে না, ফেসবুক এর অবস্থা নিয়ে।

আপনি হয়ত ভাবছেন, ওয়েবসাইট বানাতে অনেক টাকা। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে নিন। খুব কম খরচে ওয়েবসাইট দাড়িয়ে যাবে। আর এখন পেমেন্ট মেথড ওয়েবসাইট এর সাথে যুক্ত করার দরকার নেই। যখন আপনার ওয়েবসাইট এ অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে যাবে এবং ব্যবহারকারী বাড়বে তখন পেমেন্ট মেথড যুক্ত করে ফেললেই হবে, এখন শুধুমাত্র সহজে পণ্য দেখানোর জন্য এবং আপনার ওয়েবসাইট এর নাম এর মার্কেটিং এর জন্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

২. কন্টেন্ট এর দিকে আরো মনযোগী হতে হবে। পণ্য বিক্রয় এর ক্ষেত্রে আপনার কন্টেন্ট হচ্ছে মূল। বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে বেশি বেশি রিচ হওয়াটা মূল না। আমরা অনেকেই ডিজাইন এর মাধ্যমে পণ্য তুলে ধরি বা অনেক এডিটিং করি বা অনেক সময় ফটোস্যুট এর কারণে পণ্য এর রং এর পরিবর্তন দেখা দেয় ছবি এর মধ্যে এসব নিয়ে একদমই চিন্তা করি না। কন্টেন্ট বলতে মূলত ২টি বিষয়কে বোঝানো হয় – তথ্য এবং ছবি/ভিডিও। আগে ছবি/ভিডিও সম্পর্কে বলি, এমন ভাবে ছবি তোলা/ভিডিও করা উচিত যেন ক্রেতা মনে করেন যে তিনি সরাসরি পণ্যটি দেখছেন। সামনের অংশ, পেছনের অংশ, গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইত্যাদি সঠিক ভাবে তুলে ধরা। তথ্য এর সময় সকল তথ্য দেয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- রং, সাইজ, কোন ধরণের কাপড়, দাম, কিভাবে অর্ডার করবে, কিভাবে ডেলিভারি পাবে ইত্যাদি।

আমরা অনেকেই এসব ব্যাপার এ কম সময় দেই বা সহজেই বেঁচে যেতে চাই, শুধু মাত্র পোষ্টটা সাজিয়েই বিজ্ঞাপন এ দিয়ে দেই। আপনি এখন থেকে কষ্ট করা শুরু করলে ধীরে ধীরে শিখে যাবেন এবং তখন সহজ হবে এবং সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

৩. বিক্রয় পরবর্তী সেবা নিয়ে খুব কম সংখ্যক বিক্রেতা ভাবেন। ডেলিভারি দেয়ার পর ক্রেতা পণ্যটি পেল কিনা, পণ্যটি তার ভালো লেগেছে কিনা, ক্রেতা কোন সাজেশন দিতে চায় কিনা, ক্রেতা খুশি কিনা, কিছু কিছু ব্যবসায় এর ক্ষেত্রে ৭-১০ দিন পর আবার যোগাযোগ করে খবর নেয়া পণ্যটি ভালো আছে কিনা বা ভালো সার্ভিস দিচ্ছে কিনা ইত্যাদি। এই সেবাটুকু ক্রেতা পেলে আমার বিশ্বাস পরবর্তী ক্রয় এর সময় আপনার কথাই আগে ভাববেন।

আজকের লাভ এর কথা না ভেবে, আগামী দিনের ক্রেতা তৈরি এর কথা ভাবুন।

জয় আপনার ব্রান্ড এর হবে, জয় ভোক্তা সমাজের হবে।

ইন্টারনেট থেকে শিখলাম, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সবাইকে শুভেচ্ছা, ভালো থাকবেন ।

আমাদের ইকমার্স ব্যবসা।
24kenakata.com
Facebook Page: https://www.facebook.com/24kenakataa/
Facebook Group: https://www.facebook.com/groups/24kenakata/

আপনার বা আপনার পরিচিত কারো ওয়েবসাইট প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের ডেপেলপ করা ওয়েবসাইটগুলো দেখতে পারেন।
http://www.uniquevisionbd.com/portfolio/
Facebook Page: https://www.facebook.com/unique.vision.bangladesh/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *